বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবস্থান কোথায় গিয়ে ঠেকেছে

বাংলাদেশ নানা উত্থান-পতনের মধ্যে দিয়ে দীর্ঘ চল্লিশ বছরের পথপরিক্রমায় এখানকার অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে। অবস্থান বলতে মন্দের ভালো আর কি। যখন চোখের সামনে ভাল কিছুই দেখতে পাইনা তখন মন্দটাই ভাল হয়ে আমাদের সমাজে প্রতিষ্ঠা পায়। আর এটাই হলো সবচেয়ে স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। আর এখনকার সমাজ ব্যবস্থায় আরো সহজ। নিরাশা,উদ্বেগ, ভঙ্গুর ভবিষ্যত এর দিকে তাকিয়ে এখন প্রত্যেকটা মানুষই হতাশার সাগরে নিমজ্জিত। যে সাগর থেকে হাত ধরে টেনে তুলার মত একজন হৃদয়বান রাষ্ট্রনায়ক আপাতত নেই বলেই মনে হচ্ছে। ভবিষ্যত এর কথা বলছিনা, কারন তার পরিবর্তন একদিন ঘটবেই, আর সেই পরিবর্তন আসবে সাধারণ মানুষের হাত ধরে হয়তো। হয়তো একারনে বললাম তার কারন হলো আমরা এখনো সবাই মন্দকে মন্দ বলতে শিখেনি,মিথ্যাকে মিথ্যা বলতে শিখিনি। আবার কেউ তার বিপরিত তারা সত্য এবং ন্যায়কে সব সময় একি রকমভাবে দেখে এসেছে এবং বলে এসেছে। এখানে ষ্পষ্টই দুই শ্রেণীর মানুষকে আমরা দেখতে পাই।এই দুই ধরনের মতবাদ নিয়ে তো আর আমরা সমাজকে বদলে দিতে পারিনা।আর একটা সমাজই যখন বিভক্ত তখন জাতীয় পর্যায়ে দুই ধারার স্রোত বয়ে যাবে এটাই তো স্বাভাবিক। বাংলাদেশ জাতিয়তাবাদী দল এবং বাংলাদেশ আওয়ামিলীগ এই প্রজন্মের আলোচিত এবং সব চেয়ে জনপ্রিয় দুটি রাজনৈতিক দল। অতীতে দুটি দলই হ্মমতায় ছিলো এবং হ্মমতার পালা বদলে এখন ঘোড়ার ছড়ি আওয়ামিলীগের হাতে। হ্মমতার এই সোনার হরিণটিকে নিয়ে আওয়ামিলীগ এখন পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছে। আরো কিছুদিন হয়তো এভাবেই চষেই যাবে, আর তার পায়ের হ্মুরে রক্তাক্ত হবো আমি আপনি আর আমরা। হত্যা,গুম, আমলাতন্ত্র, দুর্নীতি আমাদের রাষ্টের দেহটিকে এখন খেয়ে অসার করে দিয়েছে। কিছুদিন আগে বি,এন,পির সাংগঠনিক সংগঠক ইলিয়াস আলী নিখোজ হয়ে গেলেন,আমরা তার সংবাদ টিভির মাধ্যমে দেখলাম আর খুবই অবাক হলাম। আমরা এখন মগের মুল্লুকে বাস করছি যে আমাদের কোন নিরাপত্তা থাকবেনা, আমরা স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবোনা। আমাদের নিরাপদ রাখার দ্বায়িত্ব তো নিশ্চিত করেই সরকারের। কিন্তু এখন পরিস্থিতি এতোটাই নাজুক যে আপনি ঘর বের হলে হয়তো নিজেকে নিরাপদ ভাবতে পারছেন না, তাহলে মানুষ হিসেবে আপনি কতটা অনিরাপত্তায় ভুগছেন এই প্রশ্ন এখন অবান্তর। কারন, আমাদের চিরচেনা চারপাশটাকে আর আপন ভাবতেই পারছেন না ।এতা গেল একটা দিক আর একটা দিক হলো যে বর্তমান বাজারে পণ্যের যে দাম তাতে করে মনে হয়না যে আমরা বাংলাদশে আছি, মনে হচ্ছে ইউরোপে বাস করছি। যেই দেশে মানুষের আয়ের কোন পথই নাই সেই দেশের আয়ের বিপরিতে ব্যয় হচ্ছে দ্বিগুণ। তা হলে সরকার কি করছে? আই সব সমস্যার সমাধান করতে বলছিনা। কিন্তু এমন একটি কোন সমস্যা পুরোপুরিভাবে সরকার সমাধান করতে পেরেছে,উত্তর খুব সহজ একটা সেক্টর ও নাই যে এই সেক্টরের কথা আমরা বলতে পারবো। এখন মন্ত্রি এমপি দের কথায় আমরা বিশ্বাস করিনা। গত পাঁচ বছরের আগের চিন্তা এখন অনেক প্রখর। আমরা বিবেচনা করেই বুঝতে পারি যে দেশ এগুচ্ছেনা। বিশ্ব যখন সামনে এগিয়ে যেতে যুদ্ব ঘোষণা করছে ওই সময় আমরা আমাদের পুরণো আবেগকে টেনে হেছড়ে সামনে নিয়ে আসছি। আমি যুদ্ব অপরাধীর বিচারের কথা বলছি। একজন বাংলাদেশের মানুষ হিসেবে আমিও চাই যুদ্ব অপরাধীদের শাস্তি হোক যদি তারা সত্যিকার ভাবেই অপরাধি হয়ে থাকে তাহলে। এটা একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু আমার মনে হয় সরকার এই ব্যাপারটা নিয়ে যতটুকু বিজ্ঞাপন দিচ্ছে তার চেয়ে দেশের বিদ্যমান সমসাময়িক সমস্যা গুলোর দিকে মুখ ফেরালে বোধহয় জনগন বেশি খুশি হবে। আপনার সন্তান যখন কারেন্ট এর অভাবে পরাশোনা করতে পারছে না তখন আপনি চাইবেন আগে আপনার উপযোগীতা আগে পুরুন হোক। দেশে এভাবে অনেক জায়গা আছে কাজ করার সরকার ওদিকে নজর দিক পাশাপাশি আমাদের নেতাদের গুম করা যেন বন্ধ হয় এবং আমদের রাজপথ যেন রক্তে রঞ্জিত না হয়। প্রত্যাশা এইটুকুই পুরন হবেনা জানি, তবুও কি আগামিতে হয়তো পুরন হতেও পারে।

Leave a reply