নক্ষত্রের আলো মিলিয়ে যাবার পূর্বে আবার স্বমহিমায় জ্বলে উঠুন

আওয়ামীলীগ যখন ক্ষমতায় থাকে তখন আওয়ামীলীগ মনে করে মাঠ পর্যায়ের কর্মীরাই তার শত্রু। আর যখন ক্ষমতার বাইরে থাকে তখন আওয়ামীলীগের একমাত্র শক্তি এই মাঠের কর্মীরাই। আওয়ামীলীগের সলিড ভোট ৪১% আর বিএনপি’র ৩৬%। তারপরও আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় গেলে জামাত আর জাসদের কর্মীরাই বেশী সুবিধা পায় আওয়ামীলীগের কর্মীদের তুলনায়, এটাই বর্তমান সুবিধা বঞ্চিত, নির্যাতিত কর্মী সমর্থকদের মূল্যায়ন।

রাজনীতিতে ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। যারা বলে, ক্ষমতায় আওয়ামীলীগ ছাড়া সামনে আর কেউ নেই, বুঝতে হবে তাদের উদ্দের্শ ও নিয়ত ভালো নয়। রাজপথে আওয়ামী লীগ লাঞ্ছিত হলে গণতন্ত্র কাঁদে। বঙ্গবন্ধুর কোথাও অসম্মান হলে ইতিহাসের হৃৎপিণ্ডে রক্তক্ষরণ হয়। আমার মতো অনেকের কাছেই বঙ্গবন্ধু আর আওয়ামী লীগ এক নয়। ইতিহাস বঙ্গবন্ধুকে যে উচ্চতায় বসিয়েছে সেখানে কেউ যেতে পারেননি, পারবেনও না। তার সম্মান রক্ষা মানে নিজের সম্ভ্রম রক্ষা করা। যারা একদিন বঙ্গবন্ধুর নিন্দা আর সমলোচনায় ডুবে থাকতেন সেসব ঢাল নেই, তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দাররাও মন্ত্রী, নেতা, এমপি হবার সৌভাগ্য অর্জন করেছে।সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার পাশাপাশি রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি করার অধিকার বহাল রেখে কৌশলে ধর্মভিত্তিক দলগুলোর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার জুলিয়ে রাখা, গনতন্ত্র হত্যাকারী এরশাদকে একের পর এক মামলা থেকে রেহাই দিয়ে ভবিষ্যতে তাকে বিরোধী দলের আসনে বসানোর পরিকল্পনা, আওয়ামীলীগের কঠোর সমালোচনাকারী বামদের সাথে আপোষ করে আওয়ামীলীগের পরীক্ষিত, নির্যাতিত, ত্যাগী নেতাদের চেয়ে তাদের বেশী প্রাধান্য দেয়া, আওমীলীগের মন্ত্রীসভাকে বামদের মন্ত্রীসভায় পরিনত করে যে আপোষ করা হয়েছে তাতে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির সঙ্গে একটি সমঝোতার চেষ্টা করার বাঁধা কোথায় ? তা আমার বোধগম্য নয়।  ৭১ এর কাদেরীয়া বাহিনীর প্রধান বঙ্গবীর কাদের সিদ্দীকি যিনি বঙ্গবন্ধুর হত্যার খরব শোনার পর থেকে আজ পর্যন্ত গরুর মাংস খান না, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারন করার কথা বলে চারদলীয় জোটের সাথে হাত মিলাতে পারেন তবে আপনি পাবেন না কেন ?

আজ দোহার থানার রাজনীতি যাদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে তাদের তো দলের প্রতি কোন দরদ নেই, তাদের দরদ অর্থের প্রতি। যে কোন ভাবে অর্থের পাহাড় গড়ে তুলাই তাদের রাজনীতি। অর্থের পাহাড় বড় করতে তারা সবার সাথেই আপোষ করতে পারে। আপনি উদ্যোগ নিন।আবার মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় হোন। দলের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা আপনার দিকে চেয়ে আছে। দোহার থানার রাজনীতি যার-তার হাতে দিয়ে নড়বড়ে করার সুযোগ দেয়া ঠিক হবে না। দলের উজ্জ্বলতা ধূসর করা যায় না। চাঁদের নিজস্ব আলো নেই। সূর্য আলো দিলেই না চাঁদ জোছনা ছড়ায়। তাই আপনি মাঠ পর্যায়ের নেতাদের আস্থায় টেনে এনে দল পুনর্গঠন করুন, যাতে দোহার থানা আওয়ামী লীগ উজ্জ্বল আলোয় প্লাবিত হয়। এখন দোহার থানা আওয়ামীলীগে কাউকে নীরব, না হয় তোষামোদি করতে দেখা যায়। মুখের ওপর সত্য বলার কেউ নেই।তাই মালিকান্দা মেঘুলা হাই স্কুলে আয়োজিত একুশে সংলাপে দাড়িয়ে কতিপয় নেতা নামধারীরা বলতে পারে কেউ দখলবাজী, চাঁদাবাজী, টেন্ডারবাজীর কথা প্রকাশ্যে বলতে পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেবেন।দোহারের আপামর জনগন সবাই জানে কারা এসবের হোতা তারপরও তারা ভয়ে মুখ খুলতে পারছে না। মোসাহেব নয়, সৃজনশীল সমালোচক খুঁজে নিন।জনগণের স্বার্থেই তো সব করছেন।আবার নিজকে জনগনের সামনে মেলে ধরুন।
Sazzad Hossin Sorous
দোহারের ছাত্ররাজনীতির প্রানপুরুষ সৎ আদর্শের প্রতীক সাজ্জাদ হোসেন সুরুজ।১৯৯৭ সালের তুলা ছবি।দলীয় কর্মসূচী থেকে এসে খালি গায়ে বসেছিল দোহারের নিজ বাড়ীর আমতলায়। তখন তাকে ক্যামেরা বন্দি করা হয়।

মাথার উপরে সবসময় যখন বঙ্গবন্ধুর ছবি নিয়ে অনেকে আজ আওয়ামীলীগ দাবী করে তাদের চেতনায়, মূল্যবোধে কতটা মহানায়ক বাস করেন বলতে পারেন? আপনার পিতা সাবেক দোহার থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি প্রয়াত সৈয়দ আলী মিয়া (সৈয়দ মাষ্টার) ৯৬ এ দল ক্ষমতায় থাকতেও সভাপতি ছিল।তার পরিবারে কোথাও বিত্ত-বৈভব বিলাসিতার চিহ্ন নেই। তিনি সাধারণ আসবাবপত্রে অতি সাদামাঠা জীবনযাপন করতেন। তার আসে পাশে যারা ছিল তাদের বিরোদ্ধে হাটবাজার দখল, চাঁদাবাজী, টেন্ডারবাজী, অন্যের জমি দখল, ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ছিল না। আপনার হাতে গড়া আপনার পাশে থাকা ছেলে গুলো দল ক্ষমতায় থাকতে কিছু পায়নি দল যখন ক্ষমতা হারায় তখন তাদের অনেকে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয় জোট সরকারের হামলা মামলার ভয়ে, যারা দেশে ছিল তারাও বাড়ীতে ঘুমাতে পারেনি। আজ অনেকেই দেশে বিদেশে নিজ যোগ্যতায় প্রতিষ্ঠিত। অথচ তারা দলের কোন কর্মকান্ডে নেই। দল ক্ষমতায় থাকতে আপনার পিতা পাঁচ বছর প্রাইমারী ভাইবা বোর্ডের সদস্য ছিলেন টাকার বিনিময়ে কাউকে চাকুরী দিয়েছেন এমন কথা শোনা যায়নি। অথচ রাতই দোস্ত তৎকালীন জোট সরকারের দোহার থানা বি.এন.পি’র সভাপতি সাহাবুদ্দিন এর বিরোদ্ধে টাকা খেয়ে চাকুরী দেবার অভিযোগ ছিল প্রকাশ্য। জয়পাড়া হাই স্কুলের জমি দখল করে ক্লিনিক নির্মান করে জেলও খাটেন।বর্তমানে যিনি প্রাইমারী ভাইবা বোর্ডের সদস্য তার বিরুদ্ধেও ঘোষ নেওয়ার অভিযোগ শোনা যায় ।বর্তমানে দোহার থানা আওয়ামীলীগের কোন কর্মকান্ড নেই সভাপতি মন্ত্রী সমর্থকদের হাতে শারীরিক ভাবে লাঞ্চিত হওয়ার পর অনেকটা নিরব। জানিনা কেন তিনি অপমান গজম করে আছেন ? এক সময় দোহারে অনু-বাবলু জোটি ছিল আলোচিত। তারা কখনো অন্যায়ের কাছে মাথানত করেছে বলে দেখিনি। অথচ আজ তারা অন্যায়ের কাছে পরাজিত। মুক্তিযুদ্ধের রনাঙ্গনের সৈনিক অনু-বাবলু আপনারা মৃত্যুভয়কে সামনে রেখে এগিয়ে গেছেন সামনে আবারও সেই সাহস নিয়ে গর্জে উঠুন সাধারন জনগন ও নির্যাতিত দোহার নেতাকর্মীরা আপনাদের পাশে থাকবে। তিনি নামে মাত্র সভাপতি তার কোন ক্ষমতা নেই কিছুদিন আগে নিজ বাড়ীতে দোহার থানা আওয়ামীলীগের যৌথ সভা ঢাকায় নেতা কর্মীদের উপর মন্ত্রীর নির্দেশে পুলিশ হালমা চালিয়ে তা পন্ড করে দেয়। শতাধিক নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।শতাধিক মোটর সাইকেল আটক করে থানায় নিয়ে যায়। ঢাকা জেলা আওযামীলীগের সাধারন সম্পাদক দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান দোহারের মাটি ও মানুষের নেতাখ্যাত জননেতা মাহাবুবুর রহমানও আজ জনগনের কাতারে নেই।তারই কিছু ভুলের কারনে ঢাকা জেলা যুবলীগ নেতা দোহারের ছাত্ররাজনীতির প্রানপুরুষ সাজ্জাদ হোসেন সুরুজসহ সম্ভাবনাময় অনেক নেতা আজ অবহেলিত, নিঃক্রিয়, অনেকে নিজ নিজ ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত।এখন সময় আছে যারা দলের ত্যাগী নেতা অভিমানে দল থেকে দুরে আছে তাদের কাছে ডেকে দলকে সংগঠিত করুন।আজ আজাদ-আলীম,সুরুজ-রাহিম, মাসুদ মোল্লা, সালাউদ্দিন দরানী, কিরন মৃধা,সৌদি প্রবাসী আবুল বাশার মৃধা, যিনি প্রবাসেও সংগঠনকে মজবুত করতে কাজ করছেন, ঘটু খালাসী, সুলতান খালাসী, শাহীন, মঞ্জু মোল্লা, বাশার চোকদার, পিন্স শিকদার, পিরু, জামিল, মনির খালাসী, হারুন-পলাশ, সেন্ট-সালাউদ্দিন, জুলহাস, স্বপন, আবুল হাবিব, রাজু, আলমগীর, হাবিব, মিজান, শাহাবুদ্দিন, এরা দুরে কেন? এদের কাছে ডাকুন। দলকে আবার চাঙ্গা করুন। মাঠ আপনার দখলে আবার ফিরে আসবে। এরা ক্ষমতার অংশীদারিত্ব চায় না এরা আপনার ভাল চায়।সাজ্জাদ হোসেন সুরুজকে প্রতিপক্ষ ভেবে তাকে নিঃক্রিয় করে রাখবেন না। তাকে সক্রিয় করুন, জয়পাড়া আপনার বসার জায়গা হবে। নিরব আমতলাকে সরব করুন। এক সময় দেখতাম হরতালের সময় জয়পাড়ায় সুরুজের নেতৃত্বে মিছিল বের হলে আপনি মেঘুলা থেকে মিছিল নিযে জয়পাড়া আসতেন। আজ হাওয়া ভবনের দোসর বাদ দিলাম। ওদের আমলের কলঙ্ক তো বিএনপিকে টাইটানিকের মতো ডুবিয়েছে। বর্তমানে দোহার থানা আওয়ামীলীগের কর্মকান্ডে আওয়ামীলীগকেও ডুবাবে তা সকলেই বলে বেড়ায়।
আপনার পিতার মৃত্যুর পর আমতলা অনেকটা নিরব হয়ে যায় আপনার সক্রিয়তায় আবার তাতে প্রান ফিরে পাবে তাতে সন্দেহনেই। জনগনের অন্তরে আমতলার আসন এখনও স্বমহিমায় উজ্জ্বল। কান পেতে মানুষের ভাষা শোনেন। আপনি ও আপনার দল আওয়ামীলীগ মানুষের ভেতর থেকে উঠে আসা। আপনি মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন নন। আপনি তা হবেন না। তবু অনুরোধ করব, কান পাতলে শুনতে পাবেন, এখন ঘুম ভাঙলে মানুষের কানে আগে খবর যায় না, গুজব যায়। গুজবে ভাসছে দেশ। একপক্ষ নিয়ে গণতন্ত্র শক্তিশালী হয় না। দুই পক্ষে হয়। বিয়ে-শাদির মতো। কনেপক্ষ ও বরপক্ষ এলে যেমন সানাইয়ের সুর মধুর লাগে, তেমনি রাষ্ট্র পরিচালনায় বা রাজনীতিতে সরকার-বিরোধী দল পাশাপাশি না হাঁটলে গণতন্ত্রের স্বপ্ন মধুর হয় না।আপনি আপনার মেধা ও দক্ষতা দিয়ে যেমন দোহার থানা ছাত্রলীগকে শক্তিশালী করতে আপনার কঠোর সমালোচনাকারী, আপনার শত্রুদেরও কল্যান কামনা করতেন, তাদেরকে প্রতিপক্ষ ভেবে কখনো আঘাত করেননি, আপনার নিজস্ব পরিবারে আঘাত করার পরও অনেককে ক্ষমা করার মতো দৃষ্টান্ত দেখিয়েছেন তেমনি ভাবে আপনার হিতাকাংখিদের দুঃখবোধ উপলদ্ধি করে আর নিজকে গুটিয়ে না রেখে স্বমহিমায় জনগনের মাঝে ফিরে আসুন।

রাজনীতি পরিবারের সন্তান হিসাবে গণতন্ত্র সুসংহত করা, রাজনৈতিক ঐক্য, আর নিজের ঐতিহ্যবাহী দলকে শক্তিশালী করা জরুরি নয় কি? আহমদ ছফা বলেছিলেন, ‘যখন আওয়ামী লীগ জিতে তখন মুষ্টিমেয় লোকের বিজয় হয়, আর যখন হারে তখন গোটা জাতির পরাজয় হয়’_ আমরা মুষ্টিমেয় নই, জাতির বিজয় চাই। খুচরা নাম-গোত্রহীন নেতাকর্মীদের কারনে দোহার থানার ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, শ্রমিকলীগ, আওয়াশীলীগ বির্তকিত হতে পারে না। আপনী নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে মাঠপর্যায়ে দল ঢেলে সাজান। সামনে কঠিন সময় আসছে মাঠে আপনাকেই থাকতে হবে আজ যারা দোহার থানায় দলের নাম ভাঙ্গিয়ে সব লুটেপুটে খাচ্ছে দল ক্ষমতা হারালে তাদের খোজে পাওয়া যাবে না।নির্যাতিতরা আপনার কাছেই আসবে আশ্রয় খুজতে। আপনার নেতৃত্বে মূল্যায়ন হোক ত্যাগী-মর্যাদাশীল নেতা-কর্মীর। যারা নানা অভিযোগে অভিমানে দল থেকে দুরে আছে তাদের ফিরিয়ে আনুন। আপনি উদ্যোগ নিন। আপনি জানেন লাখ লাখ মুজিব অন্তঃপ্রাণ নেতা-কর্মীর রক্ত ত্যাগ, জেল-জুলুমে যে দোহার থানা আওয়ামী লীগ চিরযৌবনা ছিল আজ তার রক্তমাংসহীন চেহারা। একজন কমিউনিস্ট নষ্ট আদর্শহীন হতে পারে, আওয়ামী লীগ হতে পারে না। রবীন্দ্রনাথের সেই উক্তি, ‘মহাকাব্যের যুগ অতীত হইয়া গিয়াছে’। বঙ্গবন্ধু নেই। ইন্দিরা নেই। আরাফাত নেই। আলেন্দে নেই। টিটো নেই। সুকর্ণ নেই। বিশ্বময় তাকালে সেসব সাহসী দুনিয়া কাঁপানো নেতা কেউই নেই। ফিদেল ক্যাস্ট্রো বেঁচে থাকলেও পড়ন্ত বেলায় শেষ ডাকের অপেক্ষায়।

সৃজনশীল মানুষ জানেন, অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে দেখা দোহার থানার আপামর জনগন তথা দলমত, ধর্মবর্ণ নির্ভিশেষে বলেন, আপনি যতই বেড়ে উঠেছেন পরিণত বয়সে আপনার সোনালী চুলের আড়ালে দৃঢ়তাই নয়, বয়সকালে সৌন্দর্যের মাধুর্যও ফুটে উঠেছে। দোহারের অধিকাংশ জনগনের মনের দাবী আপনি আসছে দোহার পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হলে আপনার বিজয় সুনিশ্চিত। আজ আপনার দিকে তাকিয়েও সৃজনশীল মননশীল মানুষজন বলেন, সোনালী চুলের আড়ালে আপনার চেহারায় ব্যক্তিত্ব প্রাজ্ঞতার পাশাপাশি দৃঢ়তা আর সৌন্দর্যের মাধুর্যও ফুটে উঠেছে। তাই আপনিই সিদ্ধান্ত নিন, যারা মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে অথচ সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের মত নীতি একচ্ছত্রভাবে প্রশ্রয় দেয় তারা দলের জন্য নিবেদিত গণতন্ত্রের পক্ষ শক্তি বলে বিবেচিত হতে পারে কি? ষড়যন্ত্রকারীদের অনুপ্রবেশই দোহার থানার রাজনীতির আজ ঘোলাটে অবস্থা স্বচ্ছ হতে পারছে না। পথভ্রষ্ট, দলত্যাগী, দুর্নীতিবাজদের দলে টেনে এনে রাজনীতিকে শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করান সম্ভব নয়। দরকার প্রজ্ঞা ও দুরদর্শিতার দোহারের অনেকে মনে করে সেই প্রজ্ঞা ও দুরদর্শিতা আপনার আছে।রাজনীতির গতিপথ অনেক দুর্গম, এই দুর্গম গিরি পথকে অতিক্রম করেই আপনাকে আবার আগাতে হবে আপনার নিজের জন্য আপনার প্রতি অন্ধ সমর্থকদের কথা ভেবে।রাজনীতির দীপ্তিহীন আগুনের নির্দয় দহনে দগ্ধ হয়েই আগাতে হবে।দলের প্রতি, নেতৃত্বের প্রতি অনুগত, আদর্শের প্রতি অবিচল অনেক নেতাকর্মী দোহার থানার আওয়ামী লীগে কত অনাদর-অবহেলায় পড়ে আছেন আর ভিন্ন দল থেকে আসা নেতারা ফুলেফেঁপে বড় হচ্ছেন! বিষণ্ন অসহায় এসব নেতা কর্মীদের বুকের ভেতরেও বোবা কান্নার আওয়াজ শুনতে পাওয়া যায় কাছে গেলে। দীর্ঘশ্বাস ঝরে অবিরাম। মানুষের কল্যাণে নিবেদিত দরদী রাজনৈতিক নেতাদের নির্বাসিত করে গণতান্ত্রিক রাজনীতি যদি উজ্জ্বল মহিমান্বিত হতো অভিনন্দন জানানো যেত। কিন্তু কার্যত দেখা যাচ্ছে, রাজনীতি থেকে কি এক অদৃশ্য ক্ষমতাবলে রাজনীতিবিদদের জোর করেই বিতাড়িত করা হচ্ছে। গণমানুষের দল আওয়ামী লীগ থেকে ইহিতাস-ঐতিহ্যের যাত্রাপথে উঠে আসা গণমানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত জ্ঞানে গরিমায় সমৃদ্ধ নেতাদের বাদ দিলে আওয়ামী লীগ কতটা দুর্বল হয় এ প্রশ্ন বড় হয়ে আসে। তার চেয়ে বড় হয়ে আসে ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন আওয়ামী লীগ দুর্বল হলে গণতন্ত্র বা দেশের ভবিষ্যতের পরিণতি কি? স্বাধীনতার মন্ত্রে মহান মুজিবের নেতৃত্বে দোহারের জনগনকে বিসুভিয়াসের মতো জ্বালাতে নব্বই দশকের যেসব ছাত্রলীগ নেতা অনন্য সাধারণ ভূমিকা রেখেছেন আপনি তাদের একজন।তখন পাশে ছিল ছাত্রনেত আঃ রাহিম, শাজাহান, সফিউদ্দিন, জয়নাল, সোহেল, পিরু আলীম, আজাদ, সালাউদ্দিন দরানী সহ আরো অনেকে। আপনার বক্তৃতায় জয়পাড়া কলেজেরে বটতলাই নাচেনি, দোহার থানার প্রতিটি প্রান্তরই উত্তাল হয়েছে, বাংলা মায়ের ছেলেরা জেগেছে।আপনার রাজনৈতিক আদর্শ, বিশ্বাস ও মূল্যবোধ ছিল নৈতিক ভিত্তির ওপর। আপনি এবং আপনার পিতা সৈয়দ মাষ্টার জনগণের কাছে ছিলেন উন্মুক্ত। নিজেকে আড়াল করার কোনো প্রয়োজন ছিল না। তিনি যেমন তার মানুষকে চিনতেন তেমনি তার মানুষ তাকে খুব ভালো করে চিনত। লোভ-লালসা ব্যক্তিগত ভোগবিলাস তাকে স্পর্শ করা তো দূরে থাক তার সীমানায় প্রবেশ করতে পারেনি।আমৃত্যু তিনি ছিলেন একরোখা। অন্যায়কে কখনোই প্রশ্রয় দেয়নি। অধিকাংশ সময় আমাকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় যেতেন। আমার হোন্ডাই ছিল তার ঘুরে বেড়ানোর বাহন।একদিন কথা প্রসঙ্গে স্যারকে বলেছিলাম আপনি তো দোহার থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি জয়পাড়া হাটটা আমাদের ইজারা দেবার ব্যাপারে বলে দিলে আমরা কিছু টাকা কামানোর সুযোগ পেতাম। তিনি সেদিন উত্তর দিয়েছিল ভালো মানুষ কখনো হাট বাজারের ইজারা নেয় না। তোরা ইজারা নিলে তোদের বদনাম হবে। এখানে যাদের মানায় তাদেরকেই থাকতে দে। দেহ থেকে মানুষের হৃদয় যে কত বড় হয় তার সান্নিধ্যে না গেলে জানতাম না। তার আশরাফ, আখলাক ভালোবাসা ভদ্র ব্যবহারে তিনি আমাকে এতটাই কাছে টানতে পেরেছিলেন যে, এখনো তার জন্য গভীর রাতে ঘুম ভাঙলে কান্না পায়।তিনিই শিখিয়েছিলেন সহিষ্ণুতা ব্যতীত ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক জীবন পর্যন্ত শান্তি অর্জন অসম্ভব

যারা এখন দলবাজি করে, লুটতরাজ করে তার স্মৃতির প্রতি সম্মান দেখায় না। সত্যিকার মুজিব সৈনিকদের কি উচিত নয় এদের প্রতিরোধ করা? রুখে দাঁড়ানোর ? পিতার আদর্শকে ধরে রাখতে আপনাকেই রুখে দাড়াতে হবে তাদের বিরোদ্ধে জনগনকে সঙ্গে নিয়ে।গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পর আমরা শুধু অপরাজনীতি, সীমাহীন দুর্নীতি, মোসাহেবি ও প্রতিহিংসা আর বিভক্তির রাজনীতির তুমুল অসুস্থ প্রতিযোগিতাই দেখিনি, দলীয়করণের মহোৎসব দেখেছি। নানা প্রতিষ্ঠানে মূর্খ দলবাজদের ঠাঁই পেতে দেখা গেছে।যেটা দোহার থানার বর্তমান চিত্রই বলে। তাই আমার ভেতরে দহন হয় এই ভেবে যে, বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীন করে গেলেও, আত্মমর্যাদা নিয়ে বাঁচার শিক্ষা দিয়ে গেলেও আমরা তার কথা বলে পথ চলি কিন্তু চিন্তা ও চেতনায় তাকে ধারণ করি না। যে প্রতিবাদ করতে জানে না, সত্য উচ্চারণে দ্বিধাগ্রস্ত সে মুজিব সন্তান না। লাখো শহীদের উত্তরসূরি নয়। দল যখন লক্ষ্যভ্রষ্ট ও আদর্শচ্যুত হয়, প্রকৃত ও সৎনিবেদিত রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা যখন দলে অপাঙ্ক্তেয় হয়ে যায়, অরাজনৈতিক, আদর্শহীন ও অসাধু ব্যক্তিরাই যখন দলের দণ্ডমুণ্ডের বার্তা বনে যান, জনগনের হৃদয়ে রক্তক্ষরণও শুরু হয় তখন থেকে।এই রক্তক্ষরনের দাগ মুছে দিতে আপনাকে এগিয়ে আসতে হবে।আপনিই শিখিয়েছেন মানুষকে বিশ্বাস করতে হবে।রাজনীতিকে পরিচ্ছন্ন করতে হবে।আপনার কাছে আমার প্রশ্ন শান্তিপ্রিয় দোহারে আপনার নিরবতার সুযোগে প্রতিহিংসার রাজনীতি চলতে থাকবে, নাকি গণতান্ত্রিক ও সহনশীল ধারার রাজনীতি ফিরে আসবে? দোহারের শাসন প্রক্রিয়ায় কি সন্ত্রাস-দুর্নীতি-বির্তকিত পরিবারের অসীম প্রভাব চলতে থাকবে, না অপেক্ষাকৃত সৎ, যোগ্য ও উন্নয়নকামী নেতৃত্ব ফিরে আসবে? এসব প্রশ্ন দোহারের রাজনৈতিক সচেতন জনগনের মধ্যে যেমনি প্রবল, তেমনি সাধারন নাগরিক সমাজ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও এখন আলোচিত হচ্ছে।

এখন সিদ্ধান্ত আপনার আপনি কোন পথে যাবেন ?

Leave a reply