‘ধবল তুষার হয়ে ঝরে পড়ে মৃত বালিহাঁস’: গ্রন্থমেলায় প্রবাসী লেখক ওয়াজীহ্ রাজীব এর কবিতার বই

ওয়াজীহ্ রাজীব। পুরো নাম ওয়াজীহ্ আল্ হাসান রাজীব। জন্ম ২২ জানুয়ারী ১৯৭৬, টাঙ্গাইল শহরের কলেজ পাড়ায়। পিতার সরকারী চাকুরীর সুবাদে ৭ম শ্রেণী পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলার দশটি স্কুলে পড়া লেখার পর ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজের কঠিন বেষ্টনীতে এসে থিতু হওয়া। এসএসসি ও এইচএসসি এখান থেকেই যথাক্রমে ১৯৯২ ও ১৯৯৪ সালে। এর পর পড়াশোনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগে এবং পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের ইউনিভারসিটি অফ ব্যালারাট এবং ভিক্টোরিয়া ইউনিভারসিটিতে। পেশায় শিক্ষক। ছেলেবেলায় প্রিয় খেলা ছিল বাবার সাথে ছন্দ মিলিয়ে কথা বলা। কবিতার প্রতি তার ঝোঁকটা সেখান থেকেই। এর পর স্কুল কলেজের ম্যাগাজিনে লেখা। মা, বাবা এবং বন্ধুদের উৎসাহ ছিল অফুরন্ত। মাঝখানে অনেক দিন বিরত থাকলেও অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে প্রবাস জীবনে কবিতাই হয়ে ওঠে প্রিয়তম আশ্রয়। এবার ২০১২ সালের গ্রন্থ্যমেলায় প্রথমবারের মত তার কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে। বইটির নাম হচ্ছে- ‘ধবল তুষার হয়ে ঝরে পড়ে মৃত বালিহাঁস’।

বইটির প্রকাশ করেছে আহমদ পালিশিং হাউস। মূল্য ধরা হয়েছে এক শত টাকা। বইটির প্রচ্ছদ একেছেন শারমীন হক সঙ্গীতা। তিনিও একজন প্রবাসী। বইটিতে মোট ৪৩টি কবিতা স্থান পেয়েছে। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কবিতার শিরোনাম হচ্ছে- আজ আমি তোময় ছোঁব না, শিরানামহীন, সিগারেট, নকশী কাঁথা, বালিহাঁস, ইতিহাস, প্রশ্ন, আমি, খুনি বাতাস, ল্যাম্প পোষ্ট, বন্ধু দিবস, শহীদ মিনারে ঈদ, কথার ছড়া, ধোঁয়া, বৃষ্টিবেতার। তার প্রতিটি কবিতাই অনবদ্ধ এবং সুপাঠেয়।

ওয়াজীহ্ রাজীব এর ‘ধবল তুষার হয়ে ঝরে পড়ে মৃত বালিহাঁস’ কবিতার বইটির ফ্লপে কবি আসাদ চেীধুরী লিখেছেন- ‘এতো জানা কথাই, সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি- জীবনানন্দ দাসের এই কথাটি যে মান্যতা পেয়েছে সে তো অকারণে নয়। ওয়াজীহ্ রাজীব, অবশ্যই কবি এবং কবিই। ‘ধবল তুষার হয়ে ঝরে পড়ে মৃত বালিহাঁস’- বই’র নামটি পড়েই বুকটা ধুক করে উঠেছিল। এই কবি, এতদিন কোথায় ছিলেন? দীর্ঘ প্রস্তুতি নিয়ে, তবেই তিনি লিখেছেন আমার অসীম মুগ্ধতা আমি কিছুতেই গোপন করতে পারছি না। শব্দের ওপর, বিষয় ও ছন্দের ওপর, প্রকরণের ওপর যথেষ্ট অধিকার থাকলেই, একজন সত্যিকার কবির পক্ষে এসব কবিতা লিখা সম্ভব। বাঙালি প্রকৃত কবিকে সনাক্ত করতে পারঙ্গম। আমি না-হয়, আগাম এই কবিকে, ওয়াজীহ্ রাজীবকে অভিনন্দন ও স্বাগত জানাই। তাঁর পরের বইটির জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকলাম’।
আ হ ম ফয়সল, নিউজ৩৯.নেট